নীড় / রূপচর্চা / স্কিন ডিনাভিয়া সেটিং স্প্রে.!
skindinavia

স্কিন ডিনাভিয়া সেটিং স্প্রে.!

মেকআপ সেটিং স্প্রে সম্পর্কে আমরা কম বেশি এখন সবাই জানি। আমাদের দেশের আবহাওয়াতে বেশি সময়ের জন্য মেকাপকে লাস্ট করাতে হলে মেকআপ সেটিং স্প্রে-এর কোন বিকল্প নেই। বিশেষ করে আমাদের যাদের ত্বক তৈলাক্ত বা অয়েলি, গরমে মেকআপ গলে যায়, বা স্কিন থেকে তেল বের হয়ে মেকআপ-কে অক্সিডাইজ করে ফেলে, বা যাদের অনেক ঘাম হয় তাদের জন্য মেকআপ সেটিং স্প্রে একটি অবশ্য দরকারি প্রোডাক্ট। বাংলাদেশের মার্কেটে এখন প্রচলিত মেকআপ সেটিং স্প্রে-এর মধ্যে রয়েছে ড্রাগস্টোর বা একটু কম দামের মধ্যে এলফ, মেকআপ রেভ্যুলেশন, লরিয়াল বা নিক্স-এর মেকআপ সেটিং স্প্রে। আর একটু হাইএন্ডে আছে ম্যাক বা আরবান ডিক-এর সেটিং স্প্রে। তৈলাক্ত ত্বকের জন্য বিশেষ করে আরবান ডিক-এর অল নাইটার সেটিং স্প্রে-টি বেশ নামকরা। কিন্তু আপনি কি জানেন বাইরের দেশে প্রফেশনাল মেকআপ আর্টিস্ট-রা অন্য একটি সেটিং স্প্রে-এর ব্র্যান্ড ব্যবহার করে থাকেন, যেটি আপনার পুরো মেকআপ এক্সপেরিয়েন্স-কেই পরিবর্তন করে দিতে পারে?! এই ব্র্যান্ড-টির নাম “স্কিন ডিনাভিয়া”।  ওয়ানে গস থেকে শুরু করে নামকরা বিউটি ব্লগার-রা অনেকেরই পছন্দের তালিকায় আছে এই ব্র্যান্ড-এর মেকআপ প্রাইমার স্প্রে এবং সেটিং স্প্রে। আমি আরবান ডিকে-এর অল নাইটার এবং স্কিন ডিনাভিয়া-এর অয়েল কন্ট্রোল মেকআপ সেটিং স্প্রে- দুটোই ব্যবহার করেছি। আমার কাছে মনে হয়েছে স্কিন ডিনাভিয়ার মেকআপ সেটিং স্প্রে-টা এখন পর্যন্ত আমার ব্যবহার করা বেস্ট প্রোডাক্ট অয়েলি স্কিন-এর জন্য। ওদের প্রাইমার স্প্রে-ও রয়েছে।

আমি যেভাবে ব্যবহার করি

আমি বেইজ মেকআপ বিউটি ব্লেন্ডার ইউজ করে করি, ড্যাম্প বিউটি ব্লেন্ডার-এ আমি মেকআপ সেটিং স্প্রে-টা থেকে স্প্রে করে নেই বেইজ মেকআপ করার সময় এবং মেকআপ হয়ে গেলে সবশেষে আরেকবার সেটিং স্প্রেটা স্প্রে করে পুরো মেকআপ-টা সিল করে নেই।

আমার রিভিউ

১) ওয়াটার রেজিসটেন্ট, তাই ঘামলেও মেকআপ গলে যায় না, আমদের মত হিউমিডিটি-এর দেশে এটা খুবই কাজের।

২) আমার স্কিন খুবই তৈলাক্ত, এই মেকআপ সেটিং স্প্রে ব্যবহার না করলে আমাকে প্রতি ঘন্টায় মেকআপ ব্লট / টাচআপ করতে হয়। মেকাপ সেটিং স্প্রে ব্যবহার করে নুন্যতম ৫ ঘন্টা , এমনকি ৬/৭ ঘন্টাও আমার টাচআপ ছাড়া মেকআপ ঠিক থাকে। এটা ত্বকে অতিরিক্ত তেল প্রডিউস করতে বাধা দেয়। রেফারেন্স-এর জন্য জানাচ্ছি যে আরবান ডিক-এর অল নাইটার ব্যবহার করলে ৩/৪ ঘন্টা পরই আমার টাচআপ করতে হয়।

৩) পোর ক্লগ করে না, বা ব্রেক আউট করে না। এটা ব্রেথেবল এবং লাইটওয়েট, এলার্জিক রিয়েকশন ক্রিয়েট করে নি এবং প্যারাবিন ফ্রি।

৪) মেকআপ স্মুদলি সেট করে, তাই ভারী বেইজ-ও ন্যাচারাল লাগে, কেইকি হয়ে থাকে না।

৫) মেকআপ-কে ম্যাট এবং ফ্রেশ রাখে এবং আইশ্যাডো-এর কালার এটা দিয়ে সিল করলে কালার ফেইড হয়ে যায় না সময়ের সাথে।

৬) দু’টো সমস্যা রয়েছে একটি হলো এটার সাইজ শুরুই হয় 4oz থেকে তাই ট্রাভেল করা কঠিন, আর দ্বিতীয়ত এই স্প্রের নজেল থেকে বের হওয়া স্প্রের ড্রপলেট কিছুটা বড় হওয়ায় ড্রাই হতে সামান্য বেশি সময় লাগে।

তৈলাক্ত ত্বক ছাড়াও ড্রাই/নরমাল স্কিনে ব্যবহার করার জন্যও মেকআপ সেটিং স্প্রে এবং ব্রাইডাল মেকআপ সেটিং স্প্রে-ও রয়েছে। সবমিলিয়ে দাম এবং কাজের দিক থেকে নিঃসন্দেহেই বলতে পারি স্কিন ডিনাভিয়ার এই মেকআপ সেটিং স্প্রে বিউটি মার্কেটের বেস্ট মেকআপ সেটিং স্প্রে-এর শিরোপার দাবিদার।

ওয়েবসাইট লিংক: https://skindinavia.com

সম্বন্ধে জাফরিন আফরোজ

এছাড়াও পড়ুন

color corrector

জেনে নিন, কনসিলার ও কালার কারেক্টারের মধ্যে পার্থক্য.!

মেকাপ সচেতন নারীরা কম-বেশি সবাই কনসিলার ও কালার কারেক্টার শব্দ দুটির সাথে পরিচিত। কালার কারেক্টারের …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

fourteen − six =