নীড় / মনীষীর জীবনী / ৫৯.জোহন কেপলার
Johane-Keplar

৫৯.জোহন কেপলার

৫৯.জোহন কেপলার
[১৫৭১-১৬৩৩]

কোপারনিকাসের ভূ-ভ্রমণবাদে যে সমস্ত জ্যোতিবিজ্ঞানী আকৃষ্ট হয়েছিলেন তাঁদের মধ্যে জোহন কেপলার অন্যতম।শোনা যায়,কোপারনিকাসের লেখা পুস্তকখানি পাঠ করার পর পৃথিবী,গ্রহ ও নক্ষত্র প্রভৃতির সম্বন্ধে তাঁর অনুসন্ধিৎসা জাগরিত হয়। তারপরেই তিনি আরম্ভ করেন জ্যোতিবিজ্ঞান সংক্রান্ত গবেষণা।তাঁর প্রথম গবেষণামূলক প্রবন্ধ প্রকাশিত হয়েছিল ১৫৯৬ খ্রিষ্টাব্দে।সেই থেকেই কেপলার বিশ্বের বিদ্বৎসমাজে প্রতিষ্ঠা রাভ করেন বিজ্ঞানী হিসাবে।

১৫৭১ খ্রিষ্টাব্দে দক্ষিণ-পশ্চিম জার্মানির ওয়েল নামক একটি শহরে জোহন কেপলার জন্মগ্রহণ করেন।তাঁর পিতা ছিলেন অত্যন্ত দরিদ্র।তার উপর ছেলেবেলার তিনি ছিলেন বড় রোগা।তাই পিতা সাহস করে ছেলেকে স্কুলে পাঠাতে পারেননি। নিজেই দান করেছিলেন প্রাথমিক শিক্ষা। কিন্ত বালকের পড়াশুনা প্রতি আগ্রহ ছিল ভয়ানক।বয়োবৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে সেই আগ্রহ এবং অজ্ঞানাকে জানার কৌতৃহল আরও বৃদ্ধি পায়।সে কৌতূহলকে চরিতার্থ করার ক্ষমতা পিতার ছিল না ।তাই বাধ্য হয়েই একটু বেশি বয়সে পুত্রকে প্রেরণ করলেন স্থানীয় এক অবৈতনিক বিদ্যালয়। কারও কারও মতে কেপলারের পিতার আর্থিক অবস্থা এত খারাপ ছিল যে,বাল্যকালে কেপলার একটি সরাইখানায় কাজ নিতে হয়েছিল।

অসাধারণ প্রতিভার অধিকারী কেপলার অতি অল্পদিনেই স্কুলের পাঠ সমাপ্ত করে ভর্তি হলেন বিশ্ববিদ্যালয়ে। মাত্র কুড়ি বছর বয়সেই বিশ্ববিদ্যালয়ের বি.এ ডিগ্রি গ্রহণ করে যোগদান করলেন গনিতের অধ্যাপক হিসাবে। সে্ই সময় তিনি টা্ইকোব্রাহের সংস্পর্শে আসেন এবং টাইকোব্রাহের সহকারীরুপে কিছুদিন কাজ করেন।

কেপলারের প্রিয় বিষয়গুলির ছিল গণিত ও জ্যোতির্বিদ্যা।অধ্যাপনার অবসরে তিনি মেতে উঠলেন গবেষণায়।প্রথমত তাঁর গবেষণার বিষয় ছিল গণিত।কিন্তু কোপারনিকাসের লেখা পুস্তকখানি হস্তগত হলে তাঁর মতে পরিবর্তিত হয় এবং জ্যোতিবিদ্যা সম্বন্ধেই গবেষণা আরম্ভ করেন।

কোপারনিকাসের নতুন চিন্তাধারায় প্রতি দৃষ্টিপাত না করলেও কেপলারের মনে কেমন যেন- একটা সন্দেহ ঘনীভূত হল। চিন্তান্বিত হয়ে উঠলেন তিনি। ভাবতে শুরু করলেন, সূর্য ও গ্রহ নক্ষত্রাদির পৃথিবীকে পরিভূমণ করা সম্ভব অথবা পৃথিবীর পক্ষে নিজ মেরুদন্ডের উপর আবর্তন করা সহজ। অনেক চিন্তা করে শেষে কোপানিকাসের মতকেই সমর্থন করলেন।এই উদ্দেশ্য রচনা করলেন একখানি পুস্তক।পুস্তকটির নাম “ব্রক্ষান্ডের রহস্য”।কথিত আছে পুস্তকখানি রচনার পর সমর্থনের জন্য কেপলার প্রেরণ করেছিলেন তাঁরই সমসামায়িক বিজ্ঞানী শ্রেষ্ঠ গ্যালিলিওর কাছে। গ্যালিলিও কী মতামত দিয়েছিলেন জানা যায় না । তবে পুস্তকটি পরবর্তীকালে গবেষনার পথকে অনেকটা প্রশস্ত করে দিয়েছিল। আজও পুস্তকটির পান্ডুলিপি অত্যন্ত যত্নের সঙ্গে রক্ষা করছে জার্মানি।

কেপলারের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য পুস্তকটির নাম “ নিউ অ্যাসট্রোনামি প্রকাশের পর বিজ্ঞানের জানতে পারলেন, সূর্যের চারদিকে গ্রহরা একটি উপবৃত্ত্যকার পথে পভ্রিমণ করেছ। তাই ওরা ঘুরতে ঘুরতে কখনও সূর্যে সন্নিকটবর্তী হয় আবার কখনও দূরে সরে যায়। কেপলারই প্রথম বিজ্ঞানী-যিনি গ্রহদের পরিভ্রমণ পথের অনেকটা সঠিক তথ্য প্রদান করেছিলেন। তিনি অত্যন্ত জোরের সঙ্গে বলেছিলেন, কোন গ্রহের কক্ষপথ ঠিক বৃত্তাকার নয়।

অনেকের মতে কেপলার একটি শক্তিশালী দূরবীনও তৈরী করেছিলেন এবং সেই দূরবীনের সাহায়্যে তিনি গ্রহ, নক্ষত্র এবং চন্দ্রের গতিবিধি লক্ষ্য করতেন। কিন্তু তাঁর দূরবীনটি কেমন ছিল আজ আর জানার কোন উপায় নেই। বহু পূর্বেই যন্ত্রটি হারিয়ে গেছে পৃথিবী থেকে।

কেপলার ছিলেন চিররুগ্ন।তার উপর রাতদিন এত কাজ ব্যস্ত থাকতেন যে শরীররে দিকে একটি বারও বয়সেই তিনি মৃত্যুবরণ করেন।পন্ডিতের হিসেব করে দেখেছেন, তাঁর মৃত্যু হয়েছে ১৬৩০ খ্রিষ্টাব্দে।তিনি দীর্ঘজীবী হলে জ্যোতিবিজ্ঞান হয়ত আরও মূল্যবান তথ্য লাভ করতে পারতো।

সম্বন্ধে সোনিয়া পারভিন

এছাড়াও পড়ুন

৯৭. সত্যজিৎ রায়

৯৭. সত্যজিৎ রায় [১৯২১-১৯৯২] বিশ্ববরেণ্য জাপানী চলচ্চিত্র পরিচালক আকিরা কুরোসাওয়া তাঁর সম্পর্কে বলেছিলেন, “এই পৃথিবীতে …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

4 × 2 =